ক্যাম্প ডেভিডের বৈঠক কেন তাৎপর্যপূর্ণ?
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে আগাম ঘোষণা ছাড়াই ক্যাম্প ডেভিডে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। সংবাদমাধ্যম এক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে ইরান পরিস্থিতি এবং ইয়েমেনে সৌদি-হুথি সংঘাত নিয়ে আলোচনা হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি কেমন?
পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক উপস্থিতি ব্যাপকভাবে বাড়াচ্ছে। অঞ্চলে বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট স্ট্রাইক গ্রুপ এবং ইউএসএস মেকিন আইল্যান্ড অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রুপ মোতায়েন করা হচ্ছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে প্রায় ৯ থেকে ১০ হাজার মার্কিন সেনা যুক্ত হতে পারেন।
সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি বিমানবাহী রণতরি স্ট্রাইক গ্রুপ এবং দুটি উভচর গ্রুপের উপস্থিতি নিশ্চিত হতে চলেছে। এতে যেকোনো আক্রমণ প্রতিহত করার পাশাপাশি বড় ধরনের অভিযান চালানোর পূর্ণ সক্ষমতা তৈরি হচ্ছে ওয়াশিংটনের।
কী বলছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প?
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজের ভবিষ্যৎ সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে অস্পষ্টতা বজায় রেখেছেন। সাময়িকী টাইমকে তিনি বলেন, গ্রহণযোগ্য চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া ‘সম্ভব’। ক্যাম্প ডেভিড বৈঠকের পর পরবর্তী পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি যদি আপনাদের বলে দিই, তবে সেটি এক বিশাল খবর হয়ে যাবে। আপনারা দেখতেই পাবেন।’
কূটনৈতিক অচলাবস্থা ও হরমুজ প্রণালি
কাতার মধ্যস্থতার চেষ্টা চালালেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার মতপার্থক্য কাটছে না। হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের যে প্রস্তাব ইরান দিয়েছিল, তা নাকচ করে দিয়েছেন ট্রাম্প। এর পাশাপাশি ইরানের তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞার কড়াকড়ি আরও বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
প্রতিরক্ষা জোরদার ও ইয়েমেন ইস্যু
ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলা মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবে পেন্টাগন অঞ্চলে অতিরিক্ত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থাও মোতায়েন করেছে। ক্যাম্প ডেভিডের বৈঠকে সৌদি-হুথি সংঘাতের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়, যা ইঙ্গিত দেয় যে ওয়াশিংটন পুরো অঞ্চলের সংঘাতের ওপর নজর রাখছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি বৃদ্ধির মাধ্যমে একদিকে যেমন ট্রাম্প আলোচনার টেবিলে নিজের অবস্থান শক্ত রাখছেন, অন্যদিকে কূটনীতি ব্যর্থ হলে যে সামরিক পথ উন্মুক্ত রয়েছে, সেই বার্তাও স্পষ্ট করা হচ্ছে।





