শি-ট্রাম্প বৈঠক ‘লোকদেখানো’; উত্তাপ কমলেও কাটেনি মতপার্থক্য

শি জিনপিং ও ডোনাল্ড ট্রাম্প
উত্তর আমেরিকা
বিদেশে এখন
0

শি জিনপিংয়ের ওয়াশিংটন সফরে লোকদেখানো বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে বলে কটাক্ষ করেছেন বিশ্লেষকরা। এছাড়া ট্রাম্প-শি প্রকাশ্যে আন্তরিকতা দেখালেও এখনও যুক্তরাষ্ট্র-চীনের মধ্যে মৌলিক মতপার্থক্য রয়েছে বলে মত বিশ্লেষকদের। তবে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ট্রাম্পের প্রাপ্তিশূন্য হলেও, তাইওয়ান ও ইরান ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান আবারও স্পষ্ট করেছে চীন।

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে বিশ্ব মিডিয়ার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফর। জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ না দিয়ে শুধু ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসতে শি’র ওয়াশিংটন সফর আর প্রথা ভেঙে প্রায় ১১ বছর পর চীনা প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানাতে স্বয়ং ট্রাম্পের মেরিল্যান্ড বিমানঘাঁটিতে ছুটে যাওয়া, সব মিলিয়ে ক্যামেরার লেন্সের পুরোটা জুড়েই ট্রাম্প-শি জিনপিং বৈঠক।

কিন্তু চীনের প্রেসিডেন্টের যুক্তরাষ্ট্র সফরের সারমর্ম কী? জাঁকজমকপূর্ণ সফরের আড়ালে প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির ব্যবধান কতটুকু কমালো দুই বাণিজ্য প্রতিদ্বন্দ্বীর; তারই উত্তর খোঁজার চেষ্টায় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সফরে বিরোধ নিষ্পত্তি ও ভূ-রাজনৈতিক ইস্যুগুলোতে অগ্রগতির অর্জনের চেয়ে জাঁকজমক ও লোকদেখানো বিষয়গুলো বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। একারণে এটিকে কূটনীতির পরিবর্তে ‘কূটনৈতিক বিনোদন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিশ্লেষকরা। হোয়াইট হাউজে দুই নেতার দেড় ঘণ্টার বৈঠকের প্রাপ্তি বলতে নভেম্বরে মেয়াদ ফুরাতে যাওয়া ওয়াশিংটন-বেইজিং বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ আরও দুই মাস বাড়াতে সম্মত হওয়া।

আরও পড়ুন:

তবে এটিকে খুব বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে মানতে নারাজ বিশ্লেষকরা। তাদের অভিমত, প্রকাশ্যে আন্তরিকতা দেখালেও এখনও যুক্তরাষ্ট্র- চীনের মধ্যে মৌলিক মতপার্থক্য রয়েছে। এছাড়া শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের ঠিক একদিন আগেই ঘটা করে ট্রাম্প জানান, আলোচনায় গুরুত্ব পাবে এআই ইস্যু।

তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বড় কোনো ঘোষণাই আসেনি দুই নেতার বৈঠক থেকে। যদিও শি জিনপিং স্বীকার করেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ যেন সর্বদা মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকে তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব চীন- যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বর্তায়। কিন্তু বৈঠকে এ বিষয়ে যেন মৌনব্রত পালন করেন ট্রাম্প।

এছাড়া ইরান যুদ্ধবিরতি নিয়েও কোনো অগ্রগতি আসেনি দুই নেতার আলোচনায়। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে পুনরায় আলোচনায় ফিরে আসার এবং চলমান যুদ্ধ অবসানের আহ্বান জানিয়েছেন শি জিনপিং। আর বৈঠকের কয়েক সপ্তাহ আগে চীনের সঙ্গে বোয়িংয়ের চুক্তি চূড়ান্ত করার যে আভাস দিয়েছিলেন ট্রাম্প; তা চূড়ান্তেও ব্যর্থ ট্রাম্প প্রশাসন। গেল মে মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বেইজিং সফরের সময় বোয়িং থেকে ২০০টি উড়োজাহাজ কিনতে প্রাথমিক সম্মতি জানায় চীন।

তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নানা সমস্যায় জর্জরিত ট্রাম্পের জন্য বৈঠকে প্রাপ্তি শুন্য হলেও; আঞ্চলিক ও ভূ-রাজনৈতিক ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান ফের একবার তুলে ধরেছে চীন। তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা করা ও ইরান যুদ্ধে সমঝোতার আহ্বানের মাধ্যমে নিজেদের কূটনৈতিক অবস্থান তুলে ধরেছে বেইজিং।

এসএস