মার্কিন নির্বাচনের ফলে বিশ্বজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া, আশাবাদ-শঙ্কা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
উত্তর আমেরিকা
বিদেশে এখন
0

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলকে স্বাগত জানিয়ে ইইউসহ ইউরোপীয় দেশগুলো বলছে, মার্কিন গণতন্ত্রের বিজয় এনেছেন ভোটাররা। রাশিয়ার মতে এই ফলাফল ট্রাম্পের শান্তি আলোচনার প্রচেষ্টায় প্রভাব পড়বে না। মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তনের আশা দেখছেন পাকিস্তানের বাসিন্দারা। তবে রিপাবলিকানদের পরাজয়ে কিছুটা শঙ্কায় ইসরাইলিরা। যদিও মার্কিন নীতি পরিবর্তনের ব্যাপারে আশাবাদী নয় ইরানের জনগণ।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারার পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক জীবনের ইতি কীভাবে ঘটবে তা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রেসিডেন্ট ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে সামরিক শক্তি প্রয়োগের ক্ষমতা এখনো তার হাতেই রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করা সহজ নয়। কারণ যেকোনো নীতিতেই তার ইউ-টার্ন নেয়ার রেকর্ড রয়েছে।

ঐতিহাসিক বিজয়ে ডেমোক্র্যাটদের অভিনন্দন জানিয়ে জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, কংগ্রেসে নিয়ন্ত্রণ না থাকলেও, জার্মান সরকারের যোগাযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে ট্রাম্প প্রশাসনই থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যাই হোক ইউরোপ তার স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে যাবে বলে জানান ফরাসি প্রধানমন্ত্রী।

জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগ এই নির্বাচনের ফলাফলে স্পষ্ট হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নাম। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কায়া কাল্লাসের মতে, মার্কিন ভোটাররা তাদের পছন্দ স্পষ্ট করে দিয়েছেন।

আরও পড়ুন:

রিপাবলিকানরা পরাজিত হলেও, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ট্রাম্পের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। এর ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না বলে জানান ক্রেমলিন মুখপাত্র।

কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের বিজয়ে পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তন, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত কমা ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশা পাকিস্তানের বাসিন্দাদের। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতার জন্য ট্রাম্পের সমালোচনা করেন করাচিবাসী।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের পরাজয়ে কিছুটা উদ্বিগ্ন ইসরাইলিরা। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরাইলের বিশেষ সম্পর্ক বজায় থাকার আশা দেখছেন তেল আবিবের বাসিন্দারা।

আরও পড়ুন:

তবে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান দু’দলই ইরানের জন্য হুমকি বলে মনে করে তেহরানের বাসিন্দারা। পদ্ধতি ভিন্ন হলেও তাদের নীতি একই। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আধিপত্যের বিরুদ্ধে বিশাল সমাবেশ করেছে ইরানিরা। ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের পদক্ষেপ নিলে কঠোর জবাব দেয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তারা।

এদিকে এঙ্গেলাব স্কোয়ারে ট্রাম্প, জেডি ভ্যান্স, স্টিভ উইটকফ ও নেতানিয়াহুর ছবি সম্বলিত একটি বিশাল ব্যানার পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানায় তেহরানের বাসিন্দারা।

এসএস