আজ (সোমবার, ১৯ অক্টোবর) দুপুরে দুর্গাপুর চৌকি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল আমিন ভূঁইয়া এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। দুর্গাপুর থানা পুলিশ সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ড মঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দুর্গাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আসাদুল ইসলাম।
এর আগে গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) দিবাগত মধ্যরাতে দুর্গাপুর পৌর শহরের মধ্যবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপূর্বকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত অপূর্ব দুর্গাপুর পৌর শহরের উকিলপাড়া এলাকার শমসেরের ছেলে।
অপূর্ব ইতিপূর্বেও চাঞ্চল্যকর আরেকটি হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার হয়েছিল। গত ২০২৫ সালের ৯ জানুয়ারি দুর্গাপুর পৌর শহরের উকিলপাড়া এলাকার পানমহলে শফিকুল ইসলাম নামে পুলিশের এক উপপরিদর্শককে (এসআই) কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা।
পরে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে পুলিশ অপূর্বকে শনাক্ত করে আটক করেছিল এবং পরবর্তীতে সে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও প্রদান করেছিল।
আরও পড়ুন:
এদিকে গত ১৫ অক্টোবর রাতে দুর্গাপুরের বিরিশিরি ইউনিয়নের উৎরাইল তেলুঞ্জিয়া গ্রামে শ্বশুরবাড়ির সামনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন সাংবাদিক আলিফ ফকির। দু’জন দুর্বৃত্ত কাছ থেকে ছয়টি গুলি করে সাংবাদিক আলিফ ফকিরকে।
এর মধ্যে পাঁচটি গুলি বিদ্ধ হয় তার শরীরে। আর ঘটনাস্থল থেকে একটি ৯ এমএম তাজা বুলেট উদ্ধার করে পুলিশ।
ওই ঘটনার পরদিন ১৬ অক্টোবর নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে দুর্গাপুর থানায় ৭ থেকে ৮ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় সাজিবুল ইসলাম ওরফে অপূর্বকে।
এ ব্যাপারে দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, সাংবাদিক লুৎফুর জামান ফকির হত্যার ঘটনার অন্যতম সহযোগী অপূর্বকে আটকের পর আজকে আদালতে তোলা হয়। পুলিশের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। এছাড়া হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত মূল আসামিসহ অন্যদের চিহ্নিত করতে ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, পুলিশ ছাড়াও সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই হত্যাকাণ্ডে রহস্য উন্মোচনসহ জড়িতদের চিহ্নিত ও ধরতে ছায়াতদন্ত শুরু করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন ১৪ (এসআরবি ১৪) গোয়েন্দা ইউনিট।





