আজ (শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ও ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক শাহীন ভূঁইয়া এসব তথ্য জানান।
নিহত মাহিদা আশুগঞ্জ উপজেলার তালশহর ইউনিয়নের আন্দিদিল গ্রামের সৌদি আরব প্রবাসী মো. মোজাম্মেলের মেয়ে। সে স্থানীয় ফাতেমা নূন নেছা মাদরাসার নূরানী দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়তো।
শিশু মাহিদাকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ এনে জাহিদুল ইসলাম (২০) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আশুগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী শিশুর মা মনিরা আক্তার। এর প্রেক্ষিতে আজ বিকেলে মামলাটি নথিভুক্ত করে অভিযুক্ত জাহিদুলকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (পঞ্চম) আদালতে হাজির করে পুলিশ।
মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, গতকাল (শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে মনিরা আক্তার তার অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে জেলা সদরের চিকিৎসকের কাছে যান। মাহিদার মায়ের অনুপস্থিতে দুপুরে মাহিদাকে একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে জাহিদুল। মনিরা আক্তার বাড়িতে ফিরে মেয়েকে না পেয়ে খুঁজতে বের হন। এক পর্যায়ে অচেতন অবস্থায় জাহিদুলের ঘরে মাহিদাকে দেখতে পান। পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুন:
মাহিদার মরদেহ ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক শাহীন ভূঁইয়া বলেন, ‘সাধারণত আমি একাই মরদেহের ময়নাতদন্ত করি। কিন্তু যেহেতু অভিযোগ ছিলো মাহিদাকে ধর্ষণ করা হয়েছে, সেজন্য ময়নাতদন্তে হাসপাতালের গাইনী বিশেষজ্ঞ কামরুন্নাহারও ছিলেন আমার সঙ্গে। শরীরে বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্নের পাশাপাশি মাহিদাকে ধর্ষণের আলামত পাওয়ার কথা জানিয়েছেন ডা. কামরুন্নাহার।’
তিনি বলেন, ‘ময়নাতদন্তে মাহিদার মৃত্যুর দুটি কারণ জানা গেছে। একটি হচ্ছে তাকে নাক-মুখ চেপে শ্বাসরোধ করা হয়েছে। আরেকটি অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ। শিশু হওয়ায় ধর্ষণের ফলে রক্তক্ষণে তার মৃত্যু হয়েছে।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আরাফাতুল ইসলাম বলেন, ‘বিকেলে জাহিদুলকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতের আদেশ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
এদিকে, শিশু মাহিদাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় বিচার দাবিতে শনিবার বিকেলে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে ‘ঐক্যবদ্ধ সদর ব্রাহ্মণবাড়িয়া’ নামে একটি সংগঠন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে সংগঠনের নেতারা ছাড়াও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।





